লিখেছেনঃ দখিনা বাতাস
প্রাণীজগতে সহস্রাধিক প্রজাতিতে যে সমকামিতার অস্তিত্ব রয়েছে তা এখন অনেকেই
জানেন। মানব সভ্যতাও কিন্তু এই ধারার ব্যতিক্রম নয়। প্রাচীন ইতিহাস থেকে
মানুষের মাঝে সমকামিতার অস্তিত্ব ছিল। এটা মোটেও একুশ শতকের কোন বিষয় নয়।
সমকামীতার ইতিহাস অনেক পুরাতন। পৃথিবীর প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাসগুলোর মধ্যে
ইসলাম জোরদার ভাবে সমকামীতাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। পবিত্র আল কুরআনে বলা
হয়েছে আদ ও সামুদ এবং লূত (আঃ) এর কওম (বংশ) কে ধ্বংস করে দেওয়া হয়
সমকামিতার অপরাধে। তারপরেও মানবজাতির লিখিত ইতিহাসের সমগ্র সময়কাল জুড়ে
সমকামী সম্পর্ক বা আচরণ একাধারে নন্দিত ও নিন্দিত হয়ে এসেছে।
**সমকামিতা কিঃ
সমকামিতা একটি যৌন প্রবৃত্তি, যার দ্বারা সমলিঙ্গের দুই ব্যক্তির মধ্যে প্রেম কিংবা যৌন আচরণ বোঝায়। প্রবৃত্তি হিসেবে, সমকামিতা বলতে বোঝায় মূলত সমলিঙ্গের কোনো ব্যক্তির প্রতি জেগে ওঠা "এক যৌন, স্নেহ বা প্রণয়ঘটিত এক ধরনের স্থায়ী স্বাভাবিক প্রবণতা"; "এছাড়া এর দ্বারা এই ধরনের সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত বা সামাজিক পরিচিতি, এই ধরনের আচরণ এবং সমজাতীয় ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এক সম্প্রদায়ের সদস্যতাও নির্দেশিত হয়।
**সমকামিতা শব্দের মূলঃ
সমকামিতা শব্দটি বিশেষ্য। এটা এসেছে মুলতঃ বিশেষণ সমকামী। ভাশাগত দিক থেকে সম মানে একই এবং কামী মানে বাসনাকারী। তাই সমকামী শব্দটির অথ দাড়াচ্ছে একই রকম বাসনাকারী। কিন্তু প্রয়োগগত অথ ভিন্ন। সমকামী শব্দটির মূল সংস্কৃত সমকামিন। মূল ধাতুর সাথে ইন প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়েছে সমকামিন (সম+কাম+ইন) যার অথ যে ব্যক্তি সমলৈঙ্গিক ব্যক্তির প্রতি যৌন আকরষণ বোধ করে। প্রাচীন কালে সমকামীদের বোঝাতে ঔপরিস্টক শব্দটি ব্যবহৃত হত। বাতস্যায়নের কামসুত্রের ষষ্ঠ অধিকরণের নবম অধ্যায়ে ঔপরিস্টক শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়।
সমকামিতার ইংরেজী প্রতি শব্দ হোমোসেক্সুয়ালিটি, যা ১৮৬৯সালে প্রথম ব্যবহার করেন Karl Maria Cutberry তার লেখা ছোট একটি আইনি পুস্তিকায়। Homosexual শব্দটি গ্রীক হোমো এবং ল্যাটিন সেক্সাস শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
বাংলাদেশ মোটামুটি রক্ষণশীল দেশ। এখানে সমকামিতা নিয়ে কথা বললে বিতরকো হবে। বাঙ্গালীরা সাধারনতঃ সমকামিতা নিয়ে কথা বলতে ইতস্তত বোধ করি। বাঙ্গালী লেখকদের মধ্যে ডাঃ লুতফর রহমান প্রথম সমকামিতার খারাপ দিক তুলে ধরেন তার যুবক জীবন বইয়ে। সেখানে তিনি ছোট একটি ঘটনার পরিসরে দেখান যে কিভাবে একজন উঠতি তরুন তার গৃহশিক্ষকের দ্বারা সমকামী জীবনে ঢুকে নিজের জীবনকে অস্থিতিশীল করে তোলে।
*প্রাচীন ইতিহাসে সমকামিতাঃ
আজকালকার শিক্ষিতদের অনেকের মুখে বলতে শোনা যায় সমকামিতা একুশ শতকের কোন বিষয়, কলিযুগের পাপ। কিন্তু প্রাচীন ইতিহাসে সমকামিতার উদাহরন খুঁজে পেলাম। প্রাচীন গ্রীসের পুরাণ আর ধর্ম শাস্ত্রগুলোতে সমকামী স্পৃহার উল্লেখ দেখা যায়।সমকামীদের কামনার দেবি ছিল ভেনাস। শুক্র গ্রহের ইংরেজী নাম ভেনাস যা ভেনাস দেবীর নামে নামকরণ করা হয়। বাংলায় যাকে আমরা সুখ তারা বা সন্ধ্যাতারা নামে চিনি। আমি অবাক হয়ে খেয়াল করছি বাংলায় কেন এই গ্রহটার নাম রাখা হল শুক্র। শুক্র হল পুরুষের বীর্য। আর সমকামীরাই উপাসনা করে এই গ্রহের। একটা আদি মিলের সন্ধান দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ওইতিহাসিক প্রমান না থাকায় আমি সেদিকে যাচ্ছি না। প্রিয়াপাস বলে সমকামীদের আরাধ্য আরেকজন দেবতা ছিল প্রাচীন গ্রিসে। এশিয়া মাইনর থেকে গাল্লিদের হাত ধরে সিবিলি পূজা পারস্যে সংক্রমিত হয়। আজকের ইরান হচ্ছে সেই পারস্য। তারপর ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর নানা প্রান্তে।
ইসলামের আবির্ভাবের যুগে আরব সমাজে ব্যাপকভাবে সমকামিতার প্রচলন ছিল। সে যুগটা আসলেই অন্ধকার যুগ ছিল। তবে সমকামিতার থেকে শিশু কামিতার প্রচলন ছিল বেশী। এই আরবদের বশে আনতে কি ইসলামে হুরের পাশাপাশি গেলমানের কথা বলা হয়েছে?
আরব্য কবিদের কবিতায় সাকী শব্দটার যথেচ্ছ ব্যবহার হত। আমাদের জাতীয় কবি নজরুলের কবিতার সাকী ও সূরার ব্যবহার প্রথম শুনি। আমি ভাবতাম সাকী মানে মদ বা এলকোহল। কিন্তু সুরা মানেই হচ্ছে মদ। আর সাকী মানে হচ্ছে মদ পরিবেষণকারী সুন্দর রমনী, বালিকা ও বালক। সুন্দর লাস্যময় কোমল সেই বালক দের কাজ শুধু পান পাত্রে মদ ঢেলে দেওয়া ছিলনা। সে সাথে মালিকের জৈবিক চাহিদা পুরনে তাদের শয্যাসঙ্গী হতে হত।
তাহিতির বিভিন্ন জায়গায় এমন কিছু মূর্তি পাওয়া গেছে যেগুলোতে দুজন পুরুষের যৌনমিলন দেখা যায়। আনাতোলিয়া, গ্রিস, রোমের বিভিন্ন মন্দিরে সিবিলি ও ডাইওনিসস এর পূজা হত। সিবিলির পুরোহিতরা মেয়েদের মত লম্বা চুল রাখত। এদের নাম ছিল গাল্লি। ধারণা করা হয় গাল্লিদের মাঝে ব্যাপক সমকামিতার প্রচলন ছিল। গ্রীক, রোমান, চৈনিক, পাপুয়া নিউগিনী এবং উত্তর আমেরিকার সভ্যতাগুলোতে এরকম অনেক উদাহরন আছে যা সেই সময়ে সমকামিতার উপস্থিতি প্রমাণ করে।
হিন্দু শাস্ত্র পূরাণে পুরুষীনি বা তৃতীয় প্রকৃতি বলে উল্লেখ আছে যা দ্বারা উভকামিতা বা সমকামিতাকেই বোঝানো হয়েছে। গুজরাটের শংখলপুরে বহুচোরা মাতার যে প্রতিমা আছে সেটা দেখতে অনেকটা সিবিলির মত। তবে কি গাল্লিদের সিবিলি পূজা পারস্য হয়ে প্রাচীন ভারতে প্রবেশ করেছিল।
*মূঘল বংশে সমকামিতাঃ
বাবর একজন গোঁড়া সুন্নি মুসলিম ছিল। সে তার শিয়া মুসলিমদের অপছন্দ করাকে কখনও কখনও ব্যক্ত করেছিল " তাদের বিচ্যুতি " বলে ।যদিও ধর্ম বাবরের জীবনের এক প্রধান স্থান ছিল এবং তার সহযোগী রাজারা ইসলামকে হালকা ভাবে গ্রহণ করেছিল। বাবর তার সমকালীন এক কবির কবিতার একটি লাইন প্রায় উদ্ধৃত করতেন:" আমি মাতাল, আধিকারিক।আমাকে শাস্তি দিন যখন আমি সংযমি। " বাবরের সহযোগী রাজারা মদ পান করতেন এবং প্রাচুর্য্য পূর্ণ ভাবে জীবন যাপন করতেন, তারা বাজারের ছেলের সঙ্গে প্রেমে পড়েছিল এবং তারা হিংস্র এবং নির্মম ছিলেন।
বাবরের এক কাকার মতে "অধর্ম এবং পাপকার্জে সে আসক্ত হয়েছিল। সে সমকামিতেও আসক্ত হয়ে পড়েছিল। তার এলাকাতে, যখনই শান্ত কোনো যুবক তার সামনে এসেছে, তাকে পাবার জন্য সে সবকিছু সে করেছিল। তার সময় এই ধরনের সমকামিতা প্রচলিত ছিল এবং সেটা একটি গুণহিসাবে বিবেচনা করা হোতো। । " সে তার মৃত্যূর দুই বছর আগে সুরাপান ত্যাগ করেছিলেন এবং তিনি তার রাজসভায় সকলকে একই কাজ করার দাবী করেছিলেন। কিন্তু সে নিজে আফিং এর নেশা ছাড়তে পারেননি।এবং তার কি বোধ হারানি। বাবর লিখেছিলেন: " সবাই সুরাপান পছন্দ করে ,পান করার জন্য শপথ নেয়,আমি শপথ নিয়েছিলাম এবং অনুতাপ করেছিলাম।
*আজকের ভারতে সমকামিতাঃ
পৃথিবীর অনেক দেশ এখন সমকামিতাকে কে সামাজিক স্বীকৃতি দিচ্ছে তার মানে এই নয় যে এটা সব দেশেই স্বীকৃতি পাবার মত কোন বিষয়। কিন্তু সমকামিতা বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষা করার মত নয়। আমাদের পাশের দেশ ভারতের সিনেমা গুলোতে এখন সম বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। যেমন দস্তানা। যদিও ওই সিনেমাটিতে বিষয়টিকে দুই বন্ধু আর তাদের বান্ধবীর মাঝে মজা হিসেবে দেখানো হয়েছে। বলিউডের আরেকটি ছবি আই লাভ ইউ বেবী তে লেসবিয়ান বা নারী সমকামীর কাহিনী স্পস্টভাবে ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে। আরো কিছু ছবি যেমন গোলমাল টু তে সমকামিতা কে দেখানো হয়েছে ফান হিসেবে। তবে সমকামিতার নিরিখে দস্তানা প্রচার পেয়েছে বেশী।
সমকামিতা সাধারণত ভারতীয় নাগরিক সমাজ ও সরকারের কাছে একটি নিষিদ্ধ বিষয়। ভারতে সমকামিতা নিয়ে সাধারণ আলোচনার সুযোগ কম। তার কারণ যৌনতা সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়েই ভারতে খোলামেলা আলোচনা হয় না। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সমকামিতার প্রতি ভারতীয়দের মনোভাবে কিছু পরিবর্তন লক্ষিত হয়েছে। বিশেষত, ভারতের সংবাদমাধ্যম ও বলিউডে সমকামিতার প্রদর্শন ও আলোচনার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ সালের ২ জুলাই, দিল্লি হাইকোর্টের একটি রায়ে স্পষ্টত জানানো হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্মতিক্রমে সমকামিতার আচরণ অপরাধের আওতায় পড়ে না। এই রায়ে আরো বলা হয়েছে যে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকার রক্ষা নীতির পরিপন্থী।
ভারতে প্রথা ও রীতিনীতির ক্ষেত্রে ধর্মের ভূমিকা অপরিসীম। ভারতের বৃহত্তম ধর্ম হিন্দুধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থগুলিতে সমকামিতার সুস্পষ্ট উল্লেখ না থাকলেও, ধর্মগ্রন্থের কোনো কোনো ব্যাখ্যাকে সমকামিতার বিরোধী মনে করা হয়। তবে ভারতের প্রধান ধর্মবিশ্বাসে সমকামিতার অবস্থান কোথায়, তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে দ্বিমত আছে। কেউ কেউ মনে করেন প্রাচীন হিন্দু সমাজে সমকামিতা শুধু প্রাসঙ্গিকই ছিল না, বরং তা গ্রহণীয়ও ছিল।
সমকামিতা কি মানসিক সমস্যা???????
ডাক্তারী বিদ্যা বা Medical Science একসময় সমকামিতাকে মানসিক অসুস্থতা হিসেবে অভিহিত করত। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান প্রমান করতে সক্ষম হয়েছে যে সমকামিতা বিষয়টি জেনেটিক কোডিং এর কারনে হয়। একটি সফটয়্যারকে যে ভাবে কোডিং করা হয় সেভাবেই সে কাজ করে। তেমনি একটি মানুষের জিন কে যে ভাবে কোডিং বা ডিএনএ বিন্যস্ত করা হয় সে সেরকমই বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। এখানে মানুষের কোন হাত নাই। সব জীবিত প্রানীর বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয় জেনেটিক কোডিং দ্বারা। তাই প্রকৃত সমকামী ব্যাক্তিকে আমি দোষ দেই না। আসলে তার নিজের কিছু করার থাকে না। সে প্রকৃতির রহস্যময়তার শিকার। কিন্তু আমি বাইসেক্সুয়াল দের ছাড় দিতে রাজি নই। তারাই মূলত আসল পাপী। তারা তো বিয়ে করেন, তাদের সন্তান হয়। আজ থেকে যদি বিশ-পঁচিশ বছর পরে আপনার ছেলে যদি আপনাকে বলে, “বাবা আমি সমকামী। আমি মেয়েদের নয় পুরুষদেরকে পছন্দ করি। আমি একটি ছেলের সাথে জীবন কাটাতে চাই, তাকে বিয়ে করতে চাই।” পারবেন মেনে নিতে ছেলের আবদার। যদি পারেন তাহলে তো কথাই নাই। বাপকা বেটা। আর যদি না পারেন তাহলে আপনার কি অধিকার সমকামিতা করার?
বিজ্ঞানীরা আজ মেনে নিয়েছেন যে, শুধু মানুষের মধ্যে নয় সব প্রানীর মধ্যেই সমকামিতার অস্তিত্ব আছে। কাজেই সমকামিতা প্রকৃতিজগতের একটি বাস্তবতা। আরো জানা গিয়েছে যে, সমকামিতার ব্যাপারটা কোন জেনেটিক ডিফেক্ট নয়। একটা সময় সমকামিতাকে স্রেফ মনোরোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হত। চিকিৎসকেরা বিভিন্ন থেরাপি দিয়ে তাদের চিকিৎসা করতেন। এর মধ্যে শারিরীক নির্যাতন, শক থেরাপি, বমি থেরাপি সব কিছুই ছিলো, কিছু ক্ষেত্রে জোর করে এদের আচরণ পরিবর্তন করলেও পরে দেখা গেছে অধিকাংশই আবার তারা সমকামিতায় ফিরে যায়। এ ধরনের অসংখ্য নথিবদ্ধ দলিল আছে। আসলে বহু ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে যাবার পর ডাক্তাররা এবং অন্যান্য অনেকেই আজ মেনে নিয়েছেন, সমকামিতা যৌনতার একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। সেজন্যই কিন্তু ১৯৭৩ সালের ১৫ই ডিসেম্বর আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন বিজ্ঞানসম্মত আলোচনার মাধ্যমে একমত হন যে সমকামিতা কোন নোংরা ব্যাপার নয়, নয় কোন মানসিক ব্যধি। এ হল যৌনতার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি।
১৯৭৫ সালে আমেরিকান সাইকোলজিকাল এসোসিয়েশন একইরকম অধ্যাদেশ প্রদান করে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন ১৯৮১ সালে সমকামিতাকে মানসিক রোগের তালিকা থেকে অব্যহতি দেয়। আমেরিকান ল ইন্সটিটিউট তাদের মডেল পেনাল কোড সংশোধন করে উল্লেখ করে –‘ কারো ব্যক্তিগত যৌন আসক্তি এবং প্রবৃত্তিকে অপরাধের তালিকা হতে বাদ দেয়া হল’। আমেরিকান বার এসোসিয়েশন ১৯৭৪ সালে এই মডেল পেনাল কোডের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে সমকামিতাকে সামাজিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করে। এর ফলে সমকামীরা পায় অপরাধবোধ থেকে মুক্তি।
আমেরিকান ১৯৯৪ সালে আমেরিকান সাইকোলজিকাল এসোসিয়েশন তাদের ‘স্টেটমেন্ট অন হোমোসেক্সুয়ালিটি’ শিরোনামের একটি ঘোষণাপত্রে সমকামিতাকে একটি স্বাভাবিক যৌনপ্রবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করে এবং কারো যৌনপ্রবৃত্তিকে পরিবর্তন করার যে কোন প্রচেষ্টাকে অনৈতিক বলে উল্লেখ করা হয়। আমেরিকান মেডিকেল এসোসিয়েশন ১৯৯৪ সালের একটি রিপোর্টে সমকামিতাকে স্বাভাবিক যৌনপ্রবৃত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, এবং অভিমত ব্যক্ত করে যে, সমকামীদের যৌনতার প্রবৃত্তি পরিবর্তনের চেষ্টা না করে বরং তারা যেন সমাজে ভালভাবে বেঁচে থাকতে পারে আমাদের সেই চেষ্টা করা উচিৎ।
একাডেমী অব পেডিইয়াট্রিক্স এবং কাউন্সিল অব চাইল্ড এন্ড এডোলেসেন্ট হেলথ স্পষ্ট করেই বলে যে সমকামিতা কোন চয়েস বা পছন্দের ব্যাপার নয়, এবং এই প্রবৃত্তিকে পরিবর্তন করা যায় না। ১৯৯৮ সালে ম্যানহাটনে কনফারেন্সে সাইকোএনালিটিক এসোসিয়েসন তাদের পূর্ববর্তী হোমোফোবিক ব্যবহারের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে।
১৯৯৯ সালে আমেরিকান একাডেমী অব পেডিয়াট্রিক্স, আমেরিকান কাউন্সিলিং এসোসিয়েশন, আমেরিকান এসোসিয়েশন অব স্কুল এডমিনিস্ট্রেটরস, আমেরিকান ফেডারেশন অব টিচার্স, আমেরিকান সাইকোলজিকাল এসোসিয়েশন, আমেরিকান স্কুল হেলথ এসোসিয়েশন, ইন্টারফেইথ এলায়েন্স ফাউন্ডেশন, ন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব স্কুল সাইকোলজিস্ট, ন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব সোশাল ওয়ার্কার এবং ন্যাশনাল এডুকেশন এসোসিয়েশন একটি যৌথ বিবৃতিতে সমাকামিতাকে একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের উপর যে কোন ধরণের আক্রমণ, আগ্রাসন এবং বৈষম্যের নিন্দা করেন। পশ্চিমা বিশ্বে কোন আধুনিক চিকিৎসকই সমকামিতাকে এখন আর ‘রোগ’ বা বিকৃতি বলে আর চিহ্নিত করেন না।
সমকামিতার কিছু পারিভাষিক শব্দঃ
কিন্তু আরো কিছু মানুষ আছে যারা স্বাভাবিক জীবন যাপনের ক্ষমতা রাখা স্তত্বেও এই বিকৃত পথে হাটে। তাদের জন্য এই রচনা লেখা। সমকামিতা আসলে দুই ধরনের
১। Homosexual act
২. Homosexual Lifestyle
Homosexual act হচ্ছে স্বাভাবিক মানুষের সমকামী ব্যবহার করা। যেটা সে একটু চেক দিয়ে চললেই এড়াতে পারে। হোমোসেক্সুয়াল লাইফস্টাইল হচ্ছে দুজন সমকামী মানূষের এক সাথে বসবাস করা যেমন সাধারন মানুষ বাস করে। তারা দুজন একসাথে সঙ্গীর মত বসবাস করে, সুখে দুঃখে একে অন্যের পাশে থাকে।ভালবাসা থাকে এখানে। কিন্তু সমকামীদের মাঝে এই প্রবণতা খুব কম লক্ষ্য করা যায়। তাদের মধ্যে এক নম্বর বৈশিষ্ট্য বেশী প্রকট। তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে সেক্স যা পশুদের প্রধান কাজ। মানুষ হিসেবে পশুদের কাজ কখনো মানুষ সমাজে গ্রহনযোগ্য হতে পারে না। পশুরা সারা বছর যৌন তাড়নায় ভোগেনা। কিন্তু একশ্রেনীর মানুষ আছে যারা সেক্স ছাড়া জীবনের আর কোন মানে খুঁজে পায় না।
সমকামীদের কয়েকভাগে ভাগে বিভক্ত করা যায়।
১। Gay বা পুরুষ সমকামী
২। Lesbian বা নারী সমকামী
৩। Shemale বা হিজড়া
৪। Bisexual বা দ্বৈত যৌন জীবন
হিজড়া আর বাইসেক্সুয়াল’রা মূলত উভকামী তবে তাদের মধ্যে সমকামী বৈশিষ্ট্য বেশী প্রকট থাকে। যৌন তাড়না বা প্রবৃত্তির ভিত্তিতে মানুষ কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
ক)সমকামীঃ সমলিঙ্গের মানুষের প্রতি যারা যৌন তাড়না অনুভব করে।
খ)উভকামীঃ যারা নারী-পুরুষ উভয়ের প্রতি যৌন বাসনা অনুভব করে।
গ)বিসমকামী বা অসমকামীঃ যারা বিপরীত লিঙ্গের মানুষের প্রতি যৌন তাড়না অনুভব করে।
বাংলাদেশে গে লাইফস্টাইল দেখা যায় না। তাই আমার ধারণা ৯৯ ভাগ সমকামী পুরুষকে বাইসেক্সুয়াল জীবন যাপন করতে হয়। যেখানে তারা প্রকাশ্যে সাধারন মানুষের মত স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার করছে। অন্য দিকে গোপনে সমকামিতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের মানুষ দের দ্বারা আমাদের তরুন বিশেষ করে কিশোর রা সমকামি দুনিয়ায় ঢুকছে। যেটা মানব সভ্যতার জন্য মোটেও সুখকর নহে।
আমি লেখার শুরুতে টপ বলে একটা শব্দ উল্লেখ করেছি, একজন পাঠক জানতে চেয়েছেন বিষয়টা কি। গুগল সার্চে জানা গেল। সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশনের কারনে গে’রা নিজেদের কে কয়েকটি শ্রেনীতে বিভক্ত করেছে। প্রধান ভাগ তিনটি। এগুলোর আবার উপভাগ আছে।
অ) টপঃ যারা যৌন মিলনের হওয়ার সময় পুরুষের রোল প্লে করে।
আ) বটমঃ যারা নারী রোলে উপগত হয় সঙ্গীর সাথে।
ই) ভারসেটাইলঃ যারা পুরুষ নারী যে কোন রোল প্লে করতে পারে।
#কিছু পরিচিত সমকামী ব্যক্তি#
মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে শিশু সমকামীতার অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে লিখতে গিয়ে আরো কিছু পরিচিত মানুষের নাম পেয়ে গেলাম যারা ব্যক্তি জীবনে সমকামী ছিলেন।
১। লিউয়োনারদো ডা ভিঞ্চি।
২। আলেক্সান্ডার দি গ্রেট
৩। সম্রাট সালাউদ্দিন
৪। রিকি মারটিন
৫। ওস্কার ওয়াইল্ড
৬। ফ্রান্সিস বেকন
৭। এরিস্টটল
৮। এলেন গিনেসবারগ, সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড কবিতার লেখক।
আমার লেখা পড়ে যদি আপনার ধারণা হয়ে থাকে যে পৃথিবীতে সমকামীদের জয়জয়কার তাহলে ভূল করবেন। সারা পৃথিবীতে তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য।পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার তুলনায় শতকরা হিসেবে তাদের পরিমান ভগ্নাংশ।তাদের বিরুদ্ধে কিংবা পক্ষে আন্দোলনের ইতিহাসও অনেক লম্বা।
(আন্দোলন-বিরোধী আন্দোলন নিয়ে লেখা অনেক বড় হবে। অনেক উপাত্ত। পরে লিখব)
**সমকামিতার কুফল**
এক্ষেত্রে প্রথমে এইডস এর কথা বলতেই হয়। মানুষের মধ্যে প্রথম এইডস এর বিস্তার ঘটে পশুকামিদের দ্বারা। এই সব বিকৃতকামী মানুষগুলো মানব সভ্যতায় এক মরণ বীজ রোপন করে গেছে যার ফল মানব সমাজকে আরো কত শতাব্দী বয়ে বেড়াতে হবে জানিনা। পশুকামীদের দ্বারা সংক্রমিত এই রোগ প্রথম ধরা পড়ে সমকামিদের মধ্যে। সেজন্য অনেকেই সমকামিতাকে এইডস রোগের মূল হিসেবে চিহ্নিত করে। যদিও তার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা ব্যাখ্যা নাই।
(লেখা চলবে)
**ইসলামে সমকামিতা**
ইসলামে সমকামিতা হারাম। মানব সভ্যতার উন্নয়নে সমকামিতা এক বড় অন্তরায়। পৃথিবীতে মানুষের ফ্যামিলি ট্রি বাঁচিয়ে রেখেছে প্রজনন ধারা। সমকামিতা এমনই এক স্থবির সিস্টেম যেখানে বংশবিস্তারের কোন সুযোগ নাই।
*হাদিস ও কুরআনের আলোকেঃ
আল কুরআন এবং হাদিসের নানা জায়গায় সমকামিতাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল কুরানের সাত জায়গায় লুত (আঃ) এর কওমের কথা বলা হয়েছে যাদের কে সমকামিতার অপ্রাধের জন্য আল্লাহ রব্বুল আলামিন ধংশ করে দেন। লুত (আঃ) এর কওম বাস করত সোদম ও গোমরাহ নগরীতে। এই সোদম থেকে ইংরেজী সোডোমি শব্দটি এসেছে যেটা পায়ুকাম বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
*আল কোরআনের সাত জায়গাঃ
১। সুরা আল আরাফের ৮০-৮৪ আয়াত
২। সুরা হুদ এর ৭১-৮৩ আয়াত
৩। সুরা আল আম্বিয়া এর ৭৪ আয়াত
৪। সুরা আল হাজ্জ্ব এর ৪৩ আয়াত
৫। সুরা আশ-শুয়ারা এর ১৬৫-১৭৫ আয়াত
৬। সুরা আন-নামল এর ৫৬-৫৯ আয়াত
৭। সুরা আনকাবুত এর ২৭-৩৩ আয়াত
“And (We sent) Lut when he said to his people: What! do you commit an indecency which any one in the world has not done before you? Most surely you come to males in lust besides females; nay you are an extravagant people. And the answer of his people was no other than that they said: Turn them out of your town, surely they are a people who seek to purify (themselves). So We delivered him and his followers, except his wife; she was of those who remained behind. And We rained upon them a rain; consider then what was the end of the guilty.”
আরবিতে সোডোমি কে বলা হয় liwat, আর যারা সমকাম করে তাদের বলা হয় luti, শব্দ দুটি হযরত লুত (আঃ) এর নাম থেকে এসেছে।
এবার আসুন আমরা দেখি হাদিসে কি বলা হয়েছে। ইসলামী চিন্তাবিদেরা রাসূল (সাঃ) এর হাদীস ও সীরাহ থেকে সমকামিতার শাস্তি মৃত্যদন্ড বিধান দিয়েছেন।
ইবনে আল যাওয়াজি থেকে বরনিত আছে যে রাসুল (সাঃ) কয়েকটি হাদিসে সমকামিতাকে অভিশাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং টপ ও বটম দুজনের জন্য মৃত্যদন্ডের শাস্তি ঘোষণা দিয়েছেন।
সুনানে আল-তিরমিজিীর ভাষ্য অনুসারে রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেন, “ কোথাও তুমি মানুষদেরকে লুতের কওমদের মত পাপ করতে দেখ, তাহলে তাকে হত্যা কর। যে এটা করে এবং যে এটাতে সাহায্য করে দুই জনকেই হত্যা করা।”
ইসলাম অনুসারে যে মানুষ লুতের কওমদের পাপ করে সে মুলত স্রষ্টার সৃষ্টির পথে বাধা সৃষ্টি করে। এক কথায় সে স্রষ্টার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এটা নৈতিক ও তত্ত্বীয় মুল সার কথা।
এই হাদিস গুলো থেকে প্রমানিত হয় ইসলাম পুর্বরতী আরব সমাজে ব্যাপকভাবে সমকামিতার প্রচলন ছিল। সমকামের প্রতি যে মানুষের আগ্রহ সেটা অস্বীকার করা যায় না। বিশ্বাসীদের জন্য আখিরাতে অপেক্ষা করছে বেহেশত। সেখানে তাদের মনোরঞ্জনের জন্য অপেক্ষা করছে লাস্যময়ী হুর আর সুদর্শন গেলমান। গেলমান কি তা স্পষ্ট ভাবে বলা হয় নাই। তবে পারস্যের কবিরা যাকে সাকী বলেছেন আরবের সাহিত্যে সেটাই গেলমান ইঙ্গিত করে। মুসলমানের জন্য মদ হারাম। বেহেশতে তাই মদের ফোয়ারা দেয়া হবে।
****চার মাযহাবে সমকামিতা নিয়ে যে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছেঃ
ইসলামী আইন ব্যাখ্যাকারী চার ইমাম সমকামিতার শাস্তি কি হবে তা নিয়ে একমত হতে পারেন নি। আবু বকর আল জাসাস বলেন, সমকামীদের হত্যা করার ব্যাপারে যে দুটি হাদিস আছে তা গ্রহনযোগ্য নয় এবং উক্ত হাদিস অনুসারে তাদেরকে কোন বৈধ শাস্তি দেয়া যেতে পারে না। হানাফী মাযহাব অনুসারে শারীরিক কোন শাস্তি দেয়া যেতে পারে না। তিনি এই হাদিস টি কে ভিত্তি হিসেবে ধরেন, "Muslim blood can only be spilled for adultery, apostasy and homicide”। ইমাম হাম্বলী এগুলোর বিরোধিতা করেন এবং সমকামিতার শাস্তি মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করেন। ইমাম শাফী অর্থ দন্ডের দিকে মত দেন।
মৃত্যু কিভাবে কার্যকর হবে সে ব্যাপারে নানা মত আছে। আবু বকর বলেন, toppling a wall on the evil-doer অথবা জীবন্ত পুড়িয়ে মেরে ফেলা হোক। অন্যদিকে আলি বিন আবু তালিব লুতি কে পাথর মেরে হত্যা করার আদেশ দেন। ইবনে আব্বাস বলেন, এই শাস্তি অবশ্যই পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে দিতে হবে।
**মুসলিম দেশগুলোতে সমকামিতার শাস্তি**
অধিকাংশ মুসলিম দেশে সমকামিতাকে ক্রাইম হিসেবে দেখা হয় এবং শাস্তি হিসেবে মৃত্যদন্ড দেয়া হয়। সৌদি আরব, ইরান, মৌরিতানিয়া, উত্তর নাইজেরিয়া, সুদান, ইয়েমেন এ সমকামিতার শাস্তি হিসেবে মৃত্যদন্ড দেয়া হয়। তালেবান শাসনামলে আফগানিস্তানে সমকামিতার শাস্তি মৃত্যদন্ড দেয়া হত কিন্তু এখন সেটা জেল ও অর্থদন্ডে নামিয়ে আনা হয়েছে
ইউনাইটেড আরব আমিরাত ও বাংলাদেশে সমকামিতার বিরুদ্ধ আইন স্পষ্ট নয়।
অনেক মুসলিম দেশ যেমন বাহরাইন, কাতার, আলজেরিয়া, উজবেকিস্তান ও মালদ্বীপে সমকামিতার শাস্তি হিসেবে জেল, অর্থদন্ড ও শারীরিক শাস্তি দেয়া হয়। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল কাতারে অনুষ্ঠিত হবে। পশ্চিমা বিশ্ব সুর তোলে কাতারে বিশ্বকাপ ফুটবল হলে ফুটবলের সমকামী সমর্থকদের কাতার জেলে ভরে রাখবে। ফিফা সভাপতি স্লেপ বাটার মজা করে বলেন , "refrain from sexual activity" while in Qatar. কিন্তু মানবাধিকার সংস্থার আপত্তির কারনে তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করেন।
মিশরে সমকামিতার বিরুদ্ধে কোন আইন নেই, কিন্তু সমকামিতা সেখানে বৈধ নয়। তার জন্য জেল শাস্তি হিসেবে রাখা হয়েছে। লেবাননে সমকামিতা বৈধ নয় কিন্তু সেভাবে শাস্তি দেয়া হয় না।
কিছু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ যেমন আলবেনিয়া, তুরস্ক, মালি, ইন্দোনেশিয়া জরডানের আইনে সমকামিতা অপরাধ নয়। আলবেনিয়া তে সমকামি বিবাহ কে আইনি স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে। পাকিস্তানে দুই থেকে আজীবন জেল দেওয়া হয় সমকামিতার অপরাধে।
ইসলামী দেশ গুলোর মধ্যে ইরান প্রথম সারজারীর মাধ্যমে জেন্ডার পাল্টানোর সুযোগ করে দেয়। ট্রান্সযেন্ডারের সুযোগ দেয়ায় অনেক মানুষ হেটারোসেক্সুয়াল জীবনে ফিরতে সক্ষম হয়। ইসলামী বিপ্লবের পর ধরমীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনী ঘোষণা দেন ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সেক্স রুপান্তর অবৈধ নয়। ইসলামে তৃতীয় জেন্ডারের মানুষদের বোঝাতে মুখান্নাতুন (mukhannathun) শব্দটি ব্যবহৃত হয়। থাইল্যান্ডের পর ইরানে সব থেকে বেশী জেন্ডার রুপান্তর করা হয়েছে।
পৃথিবীর প্রচলিত জীবন বিধানগুলোর মধ্যে একমাত্র ইসলাম সমকামিতার বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলেছে।
**বাইবেলে সমকামিতা**
মূল বাইবেলে সমকামিতা নিয়ে কোন উক্তি বা ভার্স নেই। তবে সেখানে পতিতা বৃত্তি নিয়ে কথা আছে। বাইবেলের অনেক ব্যাখ্যাকারী পতিতাবৃত্তি আর সমকামিতাকে একসাথে গুলিয়ে ফেলেছেন। সংস্করিত বাইবেলের কোন কোনটিতে সমকামিতা প্রসঙ্গটি এসেছে। কিন্তু সেটাকে তো বাইবেলের উক্তি হিসেবে নিতে পারি না।
-----------------------------------------------------------------------------------
সুদীর্ঘ এই লেখাটি ব্লগার দক্ষিণা বাতাস ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:০০ এ সামহোয়্যারইন ব্লগে প্রকাশ করেন। নিচে সামহোয়্যারইন ব্লগে পাঠক মন্তব্যও তুলে ধরা হলো।
জনাব অভিজিৎ এর সমকামীতা নামে একটা বইতে সমকামী বিষয়ে বেশ বড় ক্যানভাসে লেখা আছে। যদি পড়ে না থাকেন বইটা পড়বেন আশা করি।
আপনি লিখেছেন ভাল তবে আপনার লেখার সাথে এই উক্তটা একদম বেমানান-'আমি হতবাক হয়ে গেলাম। মানুষ যে কতটা মানসিক ভাবে অসুস্থ হতে পারে ভাবতে পারছি না। তাই ভাবলাম সম নিয়ে কিছু লিখি। '
এই উক্তির পরে আমি ভেবেছিলাম বাজে কিছু লিখবেন। পড়ে দেখলাম ভিন্ন কিছু।
অভিজিত এর বই টা আমি পড়ি নাই। তিনি এক খান বই লিখে বিক্রির জন্য সমকামিতাকে ব্যানার করেছেন। এটা তার বইয়ের বিজ্ঞাপন দেখলেই বোঝা যায়। তাই আর বইটি পড়ার ইচ্ছে হয়নি।
আসলে যখন লিখতে বসি তখন খারাপ কিছু লিখব বলেই বসেছিলাম। কেমন লিখেছি এটা পাঠকই ভাল বলতে পারবেন।
আর আমি বেমানান কিছু লিখে ফেললে সেটা সংশোধন করিনা। কারণ সেই লাইনটিই আমাকে প্রেওর লাইনটি লেখার অনুপ্রেরণা যোগায়।
সুন্দ্র মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনার মত পাঠকের জন্য লিখতেও মজা লাগে যারা সূক্ষ হিউমেরাস রাখেন।
একটা স্বাভাবিক ব্যাপারকে যদি আমরা মেনে নিতে না পারি সেটা আমাদের দোষ। কোনভাবেই সেই জিনিসটার দোষ নয়। তাই না?
আমি আমার পাঠক ও লেখকদের সাথে ফেসবুকে যোগাযোগ রাখতে চাই, বিনে পয়সায় বিজ্ঞাপণ দিয়ে নিলাম তাই, পিলিচ ডোন্ট মাইন্ড ভাই।
পুরাই ভুয়া। জেনেটিক কারনে সমকামির সংখ্যা খুবই নগন্য, গোনার মধ্যে ধরা যায়না। জেনেটিক কারণই যদি মুখ্য হতো তাহলে মানুষ প্রথম জীবনে স্বাভাবিক থেকে পরবর্তিতে সমকামী হতো না। প্রথম থেকেই সমকামী হতো।
বরং মানসিক সমস্যার কারনেই বিশ্বে এদের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সবুজ সাথী বলেছেন: ডাক্তারী বিদ্যা বা Medical Science একসময় সমকামিতাকে মানসিক অসুস্থতা হিসেবে অভিহিত করত। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান প্রমান করতে সক্ষম হয়েছে যে সমকামিতা বিষয়টি জেনেটিক কোডিং এর কারনে হয়।
পুরাই ভুয়া। জেনেটিক কারনে সমকামির সংখ্যা খুবই নগন্য, গোনার মধ্যে ধরা যায়না। জেনেটিক কারণই যদি মুখ্য হতো তাহলে মানুষ প্রথম জীবনে স্বাভাবিক থেকে পরবর্তিতে সমকামী হতো না। প্রথম থেকেই সমকামী হতো।
বরং মানসিক সমস্যার কারনেই বিশ্বে এদের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সবুজ সাথীর সাথে সম্পূর্ণ একমত।
মানুষের দাঁড়ি গোঁফ জন্মায় হরমোনের কারণে। একটি নিরদিষ্ট বয়স হওয়ার পর সেই হরমোন নিঃসরণ শুরু হয়। তার মানে কি যে তার জেনেটিক কোডিং এ ঐ হরমোন নিঃসরনের কথা নাই?
@জনাব লেখক,
মারহাবা! মারহাবা! ভালই লিখলেন,
যুক্তি দিলেন, যুক্তি মানলেন কিন্তু তালগাছটা ধরেই রাখলেন।
আপনি বললেন সমকামীতার জন্য জেনেটিক কোডিং দায়ী এই ব্যাপারটির রেফারেন্স দিতে পারবেন? ধরে নিলাম কথাটি ঠিক আছে, কিন্তু সমকামীদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যৌনতাবোধ এর শুরু থেকেই তারা সমকামী নয়, এমন সংখ্যা খুব কম। বরং পারিপ্বার্শিক নানা কারনে পরবর্তীতে তারা সমকামীতে পরিনত হয়, সুতরাং ব্যাপারটা যতটা না জেনেটিক তার চেয়ে বেশি সামাজিক।
অথবা ধরলাম জেনেটিক কোডিং জনিত সমকামী বেশি। এখন একোটী জেনেটিক কোডিং জনিত বৈশিষ্ট্য কে আপনি ডিফেক্ট বলবেন কি বলবেন না সেটি কিন্তু সমাজ ব্যাবস্থার উপরে নির্ভর করে। যেমন, মানুষের চোখের রঙ এর জন্য জেনেটিক বিন্যাস দায়ী, কারো কালো, কারো নীল, কারো সবুজ ইত্যাদি। এখন বেশিরভাগ মানুষের যদি কালো হয় এবং কারো কারো নীল হয় তবে সেটা কে কি ডিফেক্ট বলবেন? বলবেন না? আবার জেনেটিক আরো একটি বিন্যাস এর কারনে দেখা যায় কারো সারা মুখে লোম গজায়, এটি কে কি আপনি ডিফেক্ট বলবেন? অবশ্যই বলবেন। সুরতাং ব্যাপারটি দেখা যাচ্ছে ভাল খারাপ, সুস্থতা অসুস্থতা এগুলো সমাজ ব্যাবস্থার উপর নির্ভরশীল। জেনেটিক কোড হলেই যে সেটা প্রাকৃতিক এবং সে শর্তে পরিবর্তনশীল নয় এমন কোণ কথা নেই।
আপনি বার বার পশু সমকামী আচরনের সাথে মানুষের তুলনা করছেন। হয়তো বলবেন মানুষ ও তো পশু। আপনার কথার সূত্র ধরে বলি, কিছু পশু আছে যারা স্বজাতি ভক্ষন করে। এটি তাদের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, আবার কিছু মানুষও আছে যারা এই কাজ করে। এখন এই সব মানুষদের কি আপনি স্বাভাবিক বলবেন? কিংবা তাদের পুনর্বাসন বা এসব কাজ থেকে বিরত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করবেন না?
যৌনতা যতটা না প্রাকৃতিক তার চেয়ে বেশি সামাজিক বিষয়। এটি কিছু নিয়মনীতির মাঝে সীমাবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। মানুষ প্রানী বলেও বন্য প্রানীর মত আচরন করতে হবে তা কিন্তু নয়। মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করা উচিত নয় বলেই যে তাকে যা ইচ্ছা তাই করতে দেয়া যাবে এমনটিও ঠিক নয়। যারা সমকামী তারা স্বাভাবিক আচরন বিরুদ্ধ যা আরো দশজন মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে। সমকামীতা কে উতসাহীত করা মানে মানুষের স্বাভাবিক যৌন আচরন কে বাধাগ্রস্ত করা। একটা সময় হয়ত দেখা যাবে মানুষগুলো সব সমকামী হয়ে যাচ্ছে আর বাচ্চাগুলো ল্যাবরেটরীতে তৈরী হচ্ছে। তাই যদি চান তাহলে আপনাকে আর কিছু বলার নেই।
আমার লেখা পড়ে যদি আপনার মনে হয়ে থাকে যে আমি সমকামিতাকে উতসাহিত করেছি তাহলে আর কিছুই বলার থাকেনা।
আপনি লেখার মানে না বুঝেই উলটা পালটা মন্তব্য করেন। আমি কখনোই এটা বলি নাই।
স্বীকার করছি সমকামিতা বলেন, বহুগামিতাই বলেরন আর যেকোন অভ্যাস বলেন এগুলো ইগনোর করার ব্যাপার না।এগুলো প্রিভেন্ট করার ব্যাপার। তাই বলে একে অন্যের সমকামিতা বা বহুগামিতাকে নয়। প্রিভেন্ট করতে হবে ব্যাক্তিগতভাবে নিজেকে, নিজের কামকে। সে সমকামিতাই হোক, বহুগামিতাই হোক। আর আর এসব কারনেই ইসলামে নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের কথা বলা হয়েছে। যেকোন স্বাভাবিক আচরনের জন্য সুনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের বিকল্প নাই। আর এই সুনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের ম্যানুয়াল হিসেবে ধর্মগুলো কাজ করে। কেননা আর কোন গ্রন্থে কোনটা বিবেক সম্পন্ন কাজ আর কোনটা বিবেকহীন কাজ তার কোন সংজ্ঞা আপনি পাবেন না। নিজের পারিপার্শিক অবস্থা, সামাজিকতা দিয়ে বিবেকের সংজ্ঞা দেয়া যায় না। আর তাই কোন সমাজে সমকামিতা বৈধ আর কোথাও তা অবৈধ। ( আপনার আরেকটা পোস্টে লিখেছেন অনেকেই এই পোস্টে কোরানের আয়াত ব্যাবহার করেছে, কিন্তু তার কোন যৌক্তিকতা খুজে পান নাই আপনি। আমি আমার নিজের ভিঊটা আপনার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম কেন কোরানের আয়াত প্রয়োজন)।
আপনি আসলে আমার কথাটাকে ধরতে পারেন নাই। আমি বলেছি যারা অন্য মতবাদে বিশ্বাসী মানে যারা মুসলমান নয়, তারা তো আল কুরআন মানে না। তাহলে তাদের কে কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে কিভাবে বোঝাবেন। সোনার বাংলাদেশে ভিক্টোরিয়া বলে একজন ব্লগার আছেন। যিনি ইসলামের ঘোরত্র বিরোধী। সেখানে আমি দেখি সোনার বাংলার ব্লগার রা ভিক্টোরিয়াকে ইসলামে এটা আছে ওটা আছে বলে বোঝানোর চেষ্টা করেন। যদি ভিক্টরিয়াকে যুক্তিতে হারাতে হয় তাহলে কি বিশ্বাসের আবেগ থেকে তরকো না করে যুক্তির পৃথিবীতে হাটা উচিত নয় কি?
এবার আমর নিজেস্ব মতামতের কথা বলি। প্রথমতঃ সমকামিতাকে আমি কোন ভাবেই সমর্থন করতে পারি না। আমার কাছে ব্যাপারটা এক ধরনের নোংরামী মনে হয়। কলেজ লাইফে বায়োলজি আমার ফোরর্থ সাবজেক্ট ছিল। তাই বৈজ্ঞানিক জীন ভুত নিয়ে কিছু বলবার সাধ্য আমার নাই। আমি সমাজের কথা বলতে পারি। এই সমাজে অনেক মানুষ অনেক অকাজ করে যা তার অভ্যাস প্রসুত। সেটাকে আমরা অন্যায় বলে মনে করি। এবং তার শাস্তি বা সংশোধনের ব্যবস্থা করি। সমস্ত অভ্যাস জীন থেকে আসে কিনা জানি না, শুধু জানি মানুষ অভ্যাসের দাস এবং চেষ্টা করলেই অভ্যাসকে বা স্বভাবকে পাল্টানো বা নিয়ন্ত্রন করা যায়। এবং যা মানবতার জন্যে ক্ষতির কারণ তা অবশ্যই পাল্টানো বা নিয়ন্ত্রণ করা উচিৎ।
সব শেষে বলল, পশু পাখিরা সারা বছর সেক্স করতে পারে না। তাদের সেক্স র্নিদিষ্ট সময়ে প্রকৃতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। মানুষ সারা বছরই সেক্স করতে পারে এখানে প্রকৃতি আমাদের প্রতি উদার। সেই সাথে মানুষের সেক্স শুধু বংশ বিস্তারের জন্যেই নয়। এখানে রয়েছে আবেগ, মমতা, ভাল লাগা এবং নৈতিকতার মত অনেক বিষয় যা পশুদের সেক্সে হয়ত সেভাবে নেই। যেহেতু আমারা পুরোপুরি প্রকৃতি নিয়ন্ত্রিত নই সেহেতু আমাদের যা কিছু প্রকৃতি নিয়ন্ত্রিত তা মেনে নিয়ে যা নিয়ন্ত্রিত নয় তার জন্যে কিছু যথাপোযুক্ত নিয়ম কানুন তৈরী করা এবং মেনে চলা আমাদের কর্তব্য। সমকামিতা কোন যুগেই সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে সেই নিয়মের অন্তরভুক্ত ছিল না। এখন দেখা যাক আমেরিকা সমকামিতাকে কতটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে।
ভাল থাকবেন।
http://www.islamic.org.uk/homosex.html
Click This Link
আপনার পোস্টের স্ট্রাকচারটা এখন সুন্দর হয়েছে আপডেটের পর গুছানো ধন্যবাদ।
সম্মানিত বোধ করছি আমার পরার্মশগুলোকে বিবেচনায় আনার জন্যে। আপনার লেখাটি বর্তমানে পর্যাপ্ত তথ্য বহুল এবং নিরপেক্ষ হয়েছে বলে মনে করি। আপনি পক্ষ বিপক্ষ সুফল কুফল দুটোই উল্লেখ করেছেন। তারপরও একটা বিষয় আপনাকে বলতে চাই। ফ্লিম মেকিংএর উপরে একটি কোর্স করতে গিয়ে অনেক আগে একটা বিষয় আমার মাথায় গেঁথে গেছে। সেখান থেকে উদাহরণ টেনে বলছি।ধরা যাক একটি বাংলা সিনেমার কাহিনী এমন- নায়িকা বিদেশ থেকে এসেছে। খোলামেলা পোষাক এবং এই দেশের সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করা তার চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট। নায়ক তাকে শুধরাবার চেষ্টা করে। নায়িকা খোলামেলা পোষাক পরে অনেক গান টান গায় নাচা কুদা করে। মুরুব্বীদের অপমান করে। ঘটনাবহূল সিনেমার একেবারে শেষে এসে নায়িকার বোধোদয় হয় এবং সে শাড়ী পড়ে মুরুব্বীদের কাছে মাফ চায় এবং পুরোপুরি ভদ্র এক মেয়ে হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে তিন ঘন্টার সিনেমায় পুরো ২ ঘন্টা ৪০ মিনিট ধরে দর্শক নায়িকাকে আধ লেংটা এবং বেয়াদব হিসাবে দেখল। শেষে মাত্র ১৫ মিনিট দেখল নায়িকার শিষ্টাচার।(বাকি পাঁচ মিনিট সিনেমার করাকুশলীদের নাম দেখানোর জন্যে) এই অবস্থায় মানুষের মনে কোনটার প্রভাব বেশী পড়বে? শাড়ি পড়া মেয়েটি নাকি আধ লেংটা মেয়েটি।
ভাই, সোজা কথায় আসি। আমি সমকামিতার বিরুদ্ধে। সমকামিতার উৎপত্তি ও ইতিহাস আমার ভাল লেগেছে। তথ্য উপাত্তগুলোর জন্যে আপনার পোষ্টটাকে আমি প্রিয়তে রাখছি। সমস্যা হল সমকামিতার পক্ষে বিপক্ষে অনেক আন্দোলন হয়েছে শুধু এটুকু বলে থেমে গেলেন কেন? বিপক্ষ আন্দোলনের বেশ কিছু বর্ননা বা ইতিহাস যদি তুলে ধরতেন তবে ব্যক্তিগত ভাবে আমার ভাল লাগত।কারণটা আগেই বলেছি আমি সমকামিতার বিরুদ্ধে। অরেকটি কথা ভারতের আইন আদালত এবিষয়ে কি বলে তা উল্লেখ করেছেন। যদি সম্ভব হয় তবে বাংলাদেশের আইন ও আদালত এই বিষয়ে কি বলে তা জানাবেন। আপনার পরিবর্তি লেখাগুলোর অপেক্ষায় থাকলাম।
কিছু বানান ভুল আছে। পারলে এডিট করে দিবেন।
ভাল থাকবেন।
আম্মা বললেন, দর্শক চায় যে নায়িকা ভাল হয়ে যাক। তাই শেষ ১৫ মিনিটের জন্য দর্শক তার বিগত সব অপরাধ ভূলে যায়।
এই ব্যাপারে আমার উপলব্ধি হচ্ছে বাংলা সিনেমা সাধারণ আমজনতার জন্য, ভাবুক টাইপের সমালোচক আর ক্রিটিক্যাল দর্শক এর জন্য নয়।
সাথে থাকবেন। ভাল থাকবেন।
ধন্যবাদ।
পুরাই ভুয়া। জেনেটিক কারনে সমকামির সংখ্যা খুবই নগন্য, গোনার মধ্যে ধরা যায়না। জেনেটিক কারণই যদি মুখ্য হতো তাহলে মানুষ প্রথম জীবনে স্বাভাবিক থেকে পরবর্তিতে সমকামী হতো না। প্রথম থেকেই সমকামী হতো।
বরং মানসিক সমস্যার কারনেই বিশ্বে এদের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আপনি বলেছেন: জেনেটিক কোডিং এর জন্য মানুষ সারা জীবন এক ধরনের আচরণ করবে এরকম কোন কথা নাই। একটা নিরদিষ্ট সময় পরেই কিছু বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।
সবুজ সাথীর সাথে একমত।
সেটাই যদি সত্য হবে তাহলে তো আর কথাই থাকল না । মানুষ ইচ্ছা করলেই তার আচরন change করতে পারে। আপনি অনেক বিখ্যত ব্যক্তির কথা বলেছেন যারা সমকামী ছিলেন । তাহলে যে বিজ্ঞানি সমকামীতার পক্ষে কথা বলেছেন সে সমকামী কিনা সেটা আগে জানতে হবে ।
জিনের কিছু ব্যতিক্রমী বিন্যাস যা আর দশজনের মত নয় তার জন্যই সমকামী বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়
আপনার কথার সাথে একমত হতে পারলাম না। আপনার এই কথার স্বপক্ষে কোন রেফারেন্স দিতে পারবেন? স্পেসেফিকেলি কোন কোন জিনের ওরিয়েন্টেশানের জন্য সমকামিতা প্রকাশ পায় তা কি বলতে পারবেন?
নারী পুরুষের বৈশিষ্ট্যে যে যোজন যোজন ফারাক তা কি ওই এক ভাগ জিন নিরধারন করেছে।তাহলে বাকি ভাগের জিনের কাজ কি। আপনার শতকরা হিসেবের রেফারেন্স চাইছি
এর উত্তর দেয়ার আগে আপনাকে বলি মানুষ আর এপ এর জিনের মধ্য মিল ৯৭-৯৮%। কি বিশ্বাস হয়? না হলে হিউম্যান জিনোম প্রজেক্ট লিখে গুগলে সার্চ দিয়েন। আর সব মানুষ প্রায় একই রকম জিন বহন করে। কিন্তু কিছু কিছু জিনের মধ্যে জাস্ট একটু কোডিং/বেস পেয়ার এর পরিবর্তন এর জন্য ( সেটা খুবই সামান্য এবং এর মানে এই নয় যে তাদের জিন দুটি ভিন্ন, এটা হবে একই জিনের দুটি প্রকারভেদ) মানুষের মধ্যে প্রভেদ দেখা দেয়। তবে জিন আর জেনেটিক কোডিং এর মধ্যে আবার গুলিয়ে ফেলবেন না যেন। মানুষের টোটাল জেনেটিক কোডিং এর ক্ষুদ্র একটা অংশ কিন্তু জিন হিসেবে ফাংশান করে। বাকিটুকু জাঙ্ক। আর সেই হিসেবে বলা যায় মানুষের মধ্যে ৯৯.৯৯ জেনেটিক কোডিং সেম। আর এই ০.০১ পারসেন্ট পরিবর্তনই মানুষে মানুষে পরিবর্তনের জন্য দায়ী। আর নারি পুরুষের মধ্যে যতটুকু জানি ছেলেদের ৫৮-৮০ টা জিন থাকে যা মেয়েদের মধ্যে থাকে না। এখন হিসাব করুন ২১০০০-২৫০০০ (মতান্তরে ৩৫০০০) জিনের এর মধ্যে ৫৮-৮০ টার পার্সেন্ট কত দাঁড়ায়?আর যদি তা ধরেন ৩ বিলিয়ন বেস পেয়ার এর মধ্যে তখন?
আর নারি পুরুষের বৈশিস্টে যোজন যোজন ফারাক বলছেন? জাস্ট একটা হরমোন ইস্ট্রোজেন আপনার শরিরে বাড়িয়ে দিলে আপনি অনেকটাই মেয়দের মত আচরন শুরু করবেন
http://www.thetech.org/genetics/ask.php?id=38
উপরে দেখে আসুন আমি প্রতিটি টারমস কে সঙ্গায়িত করে এসেছি। দুইমাস লেখালেখি করতে পারব না। ফিরে জেনেটিকের প রে ডিটেইলস পোস্ট দিব। আশা করি আপনার নজর এড়াবে না সেটা।
ডাক্তারী বিদ্যা বা Medical Science একসময় সমকামিতাকে মানসিক অসুস্থতা হিসেবে অভিহিত করত। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান প্রমান করতে সক্ষম হয়েছে যে সমকামিতা বিষয়টি জেনেটিক কোডিং এর কারনে হয়। একটি সফটয়্যারকে যে ভাবে কোডিং করা হয় সেভাবেই সে কাজ করে। তেমনি একটি মানুষের জিন কে যে ভাবে কোডিং বা ডিএনএ বিন্যস্ত করা হয় সে সেরকমই বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
তাহলে কিভাবে বারবার জেনেটিক কোডিং এর ভূতের ব্যাপারে কথা বললাম। সামগ্রিক রচনা পড়ে দেখুন শুধু মন্তব্য নয়। আলোচনা করার অনেক কিছু আছে।
ডাক্তারী বিদ্যা বা Medical Science একসময় সমকামিতাকে মানসিক অসুস্থতা হিসেবে অভিহিত করত। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান প্রমান করতে সক্ষম হয়েছে যে সমকামিতা বিষয়টি জেনেটিক কোডিং এর কারনে হয়। একটি সফটয়্যারকে যে ভাবে কোডিং করা হয় সেভাবেই সে কাজ করে। তেমনি একটি মানুষের জিন কে যে ভাবে কোডিং বা ডিএনএ বিন্যস্ত করা হয় সে সেরকমই বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। এখানে মানুষের কোন হাত নাই। সব জীবিত প্রানীর বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয় জেনেটিক কোডিং দ্বারা। তাই প্রকৃত সমকামী ব্যাক্তিকে আমি দোষ দেই না। আসলে তার নিজের কিছু করার থাকে না। সে প্রকৃতির রহস্যময়তার শিকার।
এই কথা বলার পরো বলবেন আপনি জেনেটিক কোডিং এর ওপর কোন দায় দায়িত্ব দিচ্ছেন না?
একটি সফটয়্যারকে যে ভাবে কোডিং করা হয় সেভাবেই সে কাজ করে। তেমনি একটি মানুষের জিন কে যে ভাবে কোডিং বা ডিএনএ বিন্যস্ত করা হয় সে সেরকমই বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে
যে কোন বৈশিষ্টের জন্য আলাদা আলাদা জিন থাকে। জিন হচ্ছে কিছু বেস পেয়ারের বিন্যাস। সব জিনের নির্দিস্ট বেস পেয়ার বিন্যাস থাকে।জিন কখনো হঠাত করে আলাদা বিন্যস্ত হয়ে যায় না। আর হঠাত করে বেস পেয়ারের নতুন বিন্যাস আসলেই নতুন জিনের উদ্ভব হয় না। বেস পেয়ারে হাল্কা কিছু চেঞ্জ ( সিংগেল নিউক্লিয়টাইড পলিমরফিসম,মিউটেশান, বেস পেয়ার এডিশান, ডিলেশান, সিপিজি আইল্যান্ড হাইপার/ হাইপো মিথাইলেশান এর কারনে জিনের এক্সপ্রেশান অথবা জিন সাইলেন্সিং ( অফফ হয়ে যাওয়া) ঘটে। কখনো জিনের ওভার এক্সপ্রেশান ঘটে অথবা স্লাইট চেঞ্জ এক্সপ্রেসান ঘটে। কিন্তু নতুন জিন এসে উদ্ভব হয় না।
আপনার পুরো পোস্টের ব্যাপারে আমি কোন আপত্তি করেছি? আমি শুধু আপত্তি জানিয়েছি এই ব্যাপারটায় যেখানে আপনি সমকামিতাকে মানষিক ব্যধি বলার চাইতে জেনেটিক্স এর প্রভাব এর উপরে বেশি জোর দিয়েছেন।
আর সামুতে যখন কোন পোস্ট দেয়া হয় যে যার যার কর্ম ক্ষেত্র বা যার যার বিচরন ক্ষেত্র অনুযায়ি কমেন্ট করে। আমি আপনার পোস্টের অন্য বিষয়গুলোতে আলোচনা করার কোন বিষয় আমি পাই নাই। আপনার পোস্টটা ইনফরমেটিভ পোস্ট আর তা সমকামিতাকে নিয়ে আমার ইনফরমেশান লেভেল আরো বারিয়ে দিয়েছা। তাই ওই বিষয় নিয়ে অযথা মন্তব্য করতে চাই নি। যেটুকু আমার এখতিয়ার এর মধ্যে এসছে সেটুকু করেছি। তবে তা শুধু তর্কের খাতিরে নয় বা অসৎ উদ্দেশ্যে নয়। কিন্তু আপনার মন্তব্য পরে মনে হচ্ছে আপনি যথেস্ট বিরক্ত হয়েছেন এবং আলোচনার আরো অনেক কিছু আছে বলে আমাকে উপদেশ বানী দিলেন। আপনি কি ধরনের মন্তব্য আশা করেন তা বোঝা আমার কর্ম নয় তবে এই পোস্টে এটাই আমার শেষ মন্তব্য। ভাল থাকবেন।
ধন্যবাদ।
লেখাটি খুবই চমৎকার ও বাস্তব সম্মত হয়েছে। লেখক কে অনুরোধ করব আরো লিখতে।
সব কামই অবৈধ, অনৈতিক যদি সম্মতিহীন হয়। পোলা-পোলার চোদাচুদি যদি পাপ, পোলা-মাইয়ার চোদাচুদি কি কম পাপ?
সমাজে, ধর্মে দুটাই নিষিদ্ধ- যদি সম্মতিহীন হয়, অবৈধ হয়। তাই একটা নিয়ে আপনার মাতামাতির হেতু কি--এর বহুল প্রচার চালানো, নাকি পোস্ট হিট করার তাল?
বরং মানসিক সমস্যার কারনেই বিশ্বে এদের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নি:সন্দেহে সকল বৈজ্ঞানিক, ডাক্তারী, সামাজিক দৃস্টিতে এটা ক্ষতিকর - এবং ক্ষতিকর বলেই একে নিশিদ্ধ করা, যথা সম্ভব প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। মনে রাখা উচিত - মদ, গাঁজা, হিরোইনসহ সকল মাদকের প্রতি কিছু মানুষের অস্বাভাবিক আকর্ষণ দেখা যায়, কিছু কিছু মানুষের মাঝে থাকে আত্মহত্যার প্রবনতা, এমনকি খুনের প্রবনতাসম্পন্ন মানুষও বিরল নয় - কিন্তু এ'গুলো সবই ক্ষতিকর বিধায় নিশিদ্ধ।
একইভাবে সমকামিতার প্রবনতা জন্মগতভাবে কিছু মানুষের মাঝে আছে বলেই এর প্রতি সমর্থন দেয়ার কোন যুক্তি নাই - এটা ক্ষতিকর এবং অবশ্বই নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে প্রতিহত করার চেস্টা থাকতে হবে। যদি একে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করা তাহলে এর প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকাই বেশী। যেমন যে সমাজে মদ কে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহন করা হয়েছে সেখানে মদের প্রবনতা বেড়েছে। যে সমাজে খুনের স্বাস্তি হ্রাস করা হয়েছে সেখানেই খুন-জখমের প্রবনতাও বেড়েছে।
সুতরাং সমকামিতাকে ঘৃনা করতে হবে, আইনের মাধ্যমে নিশিদ্ধ করতে হবে এবং সমকামীদের দৃস্টান্তমুলক স্বাস্তি দিতে হবে যাতে অন্য যাদের মধ্যে এই প্রবনতা আছে তারাও সংযমী হতে বাধ্য হয়। অন্যথায় সমাজে অশ্লিলতা, নির্লজ্জ-বেহায়াপনা এমনভাবে বিস্তার লাভ করবে যার পরিনতি হবে ভয়াবহ।
১। সমকামী মানে যদি সমলিন্গের সাথে যৌন আক্ষাংকা মেটানো হয়ে থাকে তা হলে সেটা বেশ জঘন্যতম । প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি চরিতার্থ শুধু বিসম লিংগেই হয় । ঈশ্বর-আল্লা আমাদের দেহ সেই ভাবেই সৃষ্টি করেছেন বা প্রাকৃতিক ভাবে আমরা ( পুরুষ ও নারী ) সেই ভাবেই সৃষ্টি হয়েছি। যার কারনেই বংশগতি ।
২। সমকামী মানে যদি সমলিন্গের সাথে সারাজীবনের জন্য একসাথে বসবাস বা সংসার করা হয়ে থাকে তবে প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি চরিতার্থ তারা অন্য কোন স্থানে গিয়ে বিসমলিংগের সাহায্য নেন - তা হলে সেটা মানা যায়। কিন্তু তাকে সমকামী বলা যাবে না।
অনেক সমকামী বলছেন - আমরা বিবাহ করব না - তাই আমরা দুই পুরুষ বা দুই নারী একসাথে থাকবো চিরকাল ভালোবেসে ---ঠিক আছে সেটা ভালো । কেউ বিবাহ করতে নাই পারেন এটা তাঁর সিদ্ধান্ত । কিন্তু তার সাথে পায়ুমৈথন,মুখমৈথুন,অন্গুলি মৈথুন এ কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। নোংরা ঘৃনিত কাজ। এ এক মানসিক ব্যাধি বলা যায়। পশুদের হয় বলে কি মানুষেরও তা কাম্য কি ? তাহলে পশুদের থেকে মানুষের পার্থক্য কোথায় ?
অনেক সমকামী বলছেন - আমরা বিবাহ করব না -সন্তান উৎপাদন করবো না - সেটা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার কিন্তু বিবাহ করে সন্তান না উৎপাদন করাও তো যায় ।আসল ব্যাপার - সব কিছুর স্বাভাবিকই ভালো, অস্বাভাবিক কোনকিছুই ভালো নয় । শ্বাসপ্রশ্বাস চলা ভালো কিন্তু অস্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস হলে বুঝতে হবে - মৃত্যু খুবই কাছে ।
আমি আমার ব্যক্তিগত দিক পর্ষালোচনা করে মন্তব্য করলাম মাত্র ...কাউকে ছোট করার জন্য নয় ।
লেখার কিছু পাননা নাকি!
ছিহ!
শিরোনাম পড়েই কমেন্ট দিলাম। পোষ্ট পড়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে পারলাম না...